মিঠামইনে মাদ্রাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ব্যাপক অর্থ আত্মসাত।
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার চমকপুর ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ইয়াকুব আলী খন্দকারের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। দীর্ঘ তদন্ত শেষে সম্প্রতি আদালতে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।
আদালত ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইয়াকুব আলী খন্দকার মাদ্রাসাটির অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। তিনি উপজেলা ওলামা লীগের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। দায়িত্ব পালনের দীর্ঘ সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে মাদ্রাসার তহবিল তছরুপ ও লাগামহীন দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। ২০২৫ সালে মুরশিদুল আলম ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব অনিয়ম সামনে আসে।
পরবর্তীতে মুরশিদুল আলম বাদী হয়ে অধ্যক্ষ ইয়াকুব আলী ও সাবেক গভর্নিং বডির সভাপতি কোরবান আলীকে বিবাদী করে কিশোরগঞ্জ-৪ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা (সিআর মামলা নম্বর: ৫৩৯/২০২৫) করেন। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির এসআই মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম গত ২৭ শে এপ্রিল ২০২৬ তারিখ আদালতে ২৭৭ পৃষ্ঠার একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিবাদী ইয়াকুব আলী ও কোরবান আলীর যোগসাজশে মাদ্রাসার তহবিল থেকে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে অর্থ উত্তোলন ও আত্মসাৎ করেছেন। এমনকি মাদ্রাসা উন্নয়নের দোহাই দিয়ে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে ঘুষ দেওয়ার নাম করেও বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার তথ্য মিলেছে। তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৩, ৪০৬, ৪২০ ও ৩৪ ধারার অপরাধ প্রাথমিক সত্য বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে ইয়াকুব আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দা হুমায়ুন কবির। তবে সেই তদন্তটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অভিযোগ ওঠে তৎকালীন মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
এছাড়া গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর স্থানীয় বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর এবং শহীদ জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি পোড়ানোর অভিযোগে মিঠামইন থানায় একটি মামলা হয়। ওই মামলায় পুলিশ ইয়াকুব আলীকে গ্রেফতার করলে তিনি কিছুকাল কারাগারে থাকার পর বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মুরশিদুল আলম বলেন, “দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ইয়াকুব আলী দুর্নীতির রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। তিনি ও সাবেক সভাপতি মিলে প্রায় ৩০ লাখ টাকা লুটপাট করেছেন। এখন একটি মহল পুরো ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইয়াকুব আলী খন্দকার বলেন,“আমি কেবল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছি।”