• বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ০২:৩৯ পূর্বাহ্ন
Headline
খাস জমি দখলমুক্ত করে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত করলেন ভূমি কর্মকর্তা ও বিএনপি নেতারা পীর সাহেবকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে কাকন শেখের গ্রেফতারের দাবিতে মধুখালীতে মানববন্ধন মিঠামইনে মাদ্রাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ব্যাপক অর্থ আত্মসাত। টঙ্গীতে জুতা তৈরির কারখানায় আগুন পবিপ্রবিতে ভিসিবিরোধী অপতৎপরতা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের প্রতিরোধের মুখে পন্ড মধুখালীতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নওপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান আটক এরশাদনগরে ভয়ংকর মাদক সাম্রাজ্য ‘সেন্টু সিন্ডিকেট’-এর ছোবলে বিপথে তরুণ সমাজ –পর্ব ২য় অপপ্রচার ও মানহানির অভিযোগে ৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় ও সিআইডিতে অভিযোগ সাবেক সেনা কর্মকর্তার সম্পত্তি নিয়ে উত্তরাধিকারীদের বিরোধ, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ গাজীপুর পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যা আটক ২ 

এরশাদনগরে ভয়ংকর মাদক সাম্রাজ্য ‘সেন্টু সিন্ডিকেট’-এর ছোবলে বিপথে তরুণ সমাজ –পর্ব ২য়

Reporter Name / ১২ Time View
Update : সোমবার, ১১ মে, ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধি | গাজীপুর

গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী পূর্ব থানাধীন এরশাদনগর ২ নম্বর ব্লকের লালু মিয়ার গলি এলাকায় কথিত ‘সেন্টু সিন্ডিকেট’-কে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মাঝে। অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা একটি সংঘবদ্ধ মাদকচক্র এলাকার যুব সমাজকে ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, এই চক্রের নেপথ্যে রয়েছে প্রভাবশালী একটি মহল, যারা বিভিন্ন কৌশলে পুরো নেটওয়ার্ককে সক্রিয় রাখছে।

 

স্থানীয় সূত্র বলছে, এলাকায় নির্দিষ্ট সময় ভাগ করে মাদক বিক্রির কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। দিনের এক সময় খুচরা বিক্রি, আবার গভীর রাতে চলে বড় চালান আদান-প্রদানের মতো কার্যক্রম। অভিযোগ রয়েছে, কিশোর ও তরুণদের ব্যবহার করে ‘স্পটভিত্তিক’ সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে, যাতে মূল হোতারা সহজেই আড়ালে থাকতে পারে।আগে ছেলেরা মাঠে খেলাধুলা করত, এখন রাত হলেই সন্দেহজনক আড্ডায় জড়ো হয়। পরিবারগুলো আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, স্থানীয় কিছু বেকার তরুণকে সহজ টাকার প্রলোভন দেখিয়ে এই চক্রে যুক্ত করা হচ্ছে। প্রথমে ‘ডেলিভারি’ বা পাহারার কাজ দিলেও পরে তাদের মাদক বিক্রির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে অল্প বয়সেই অনেক তরুণ অপরাধ জগতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাদক কারবারকে কেন্দ্র করে এলাকায় বেড়েছে চুরি, ছিনতাই, মারামারি ও সামাজিক অস্থিরতা। সন্ধ্যার পর অনেক পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের চলাচলেও তৈরি হয়েছে ভয়ের পরিবেশ।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কথিত এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির যোগাযোগ রয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় ও স্থানীয় প্রভাব কাজে লাগিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, মাঝে মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান পরিচালিত হলেও তা স্থায়ী কোনো সমাধান আনতে পারছে না। তাদের মতে, মূল হোতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা না গেলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়।

 

সামাজিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি এলাকায় যখন সহজে মাদক পাওয়া যায়, তখন সেখানে অপরাধ প্রবণতা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এর প্রভাব পড়ে শিক্ষা, পারিবারিক বন্ধন এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর। তাই শুধু অভিযান নয়, প্রয়োজন সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত নজরদারি এবং তরুণদের পুনর্বাসনের কার্যকর উদ্যোগ।

 

এরশাদনগরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে। যারা নীরব, কাল তারাও এই ভয়াবহতার শিকার হতে পারে।”মাদকবিরোধী কার্যকর অভিযান, সামাজিক প্রতিরোধ এবং প্রশাসনের কঠোর নজরদারিই পারে এরশাদনগরকে এই অন্ধকার থেকে ফিরিয়ে আনতে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা